ভারতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতের বয়ান আর সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর বয়ান কেন একই সুরে? কারণটা সোজা।
কয়েকদিন আগে যখন সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী (ব্লিটজ সম্পাদক) বাংলাদেশে হামাসের অনুপ্রবেশ, ফলস ফ্ল্যাগ ও জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে সতর্ক করলেন, তখন অনেকে ভাবলেন এটা তার নিজস্ব বিশ্লেষণ। কিন্তু ভারতে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার যখন একই কথা বললেন — বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের কার্যক্রম বিস্তারিত হচ্ছে — তখন স্পষ্ট হয়ে গেল: এটা কোনো কাকতালীয় মিল নয়। এটা একই এজেন্ডার প্রতিধ্বনি।
সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর আসল পরিচয় কী?
দীর্ঘদিন ধরে তাকে মোসাদ এজেন্ট বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০০৩ সালে তেল আবিব যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার কাছ থেকে ইসরায়েল-সম্পর্কিত ডকুমেন্ট, বাংলাদেশের স্পর্শকাতর তথ্য ও ইসরায়েলের কাছে অর্থ সাহায্য চাওয়ার কাগজপত্র পাওয়া গিয়েছিল বলে অভিযোগ।
রাষ্ট্রদ্রোহ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও নিন্দার মামলায় ৭ বছরের সাজা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে মোসাদ এজেন্ট হিসেবে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল।
তার পত্রিকা Weekly Blitz দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। প্রতিটি ঘটনাকে জঙ্গিবাদের সাথে জুড়ে দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা তার মূল কাজ বলে সমালোচকরা মনে করেন।
তার লক্ষ্য স্পষ্ট: বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গি আস্তানা হিসেবে চিহ্নিত করা। যাতে বাইরের শক্তি (বিশেষ করে ভারত-ইসরায়েল অক্ষ) এখানে হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা পায়।
কেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সাথে তার বয়ান মিলে যায়?
কারণ তিনি যে সুরে কথা বলেন, সেটা ইসরায়েলের স্বার্থের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ইসরায়েল চায় দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের বিরোধী শক্তি (হামাস বা ইসলামপন্থী গ্রুপ) দেখিয়ে নিজেদের “ভিকটিম” হিসেবে উপস্থাপন করতে। আর শোয়েব চৌধুরী সেই কাজটাই করে যাচ্ছেন — বছরের পর বছর।
তার পত্রিকা চলে কার অর্থায়নে? অনেকের অভিযোগ, ইসরায়েলি সোর্স থেকে। প্রো-ইসরায়েলি লবির সাথে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা প্রকাশ্য। এমনকি ইহুদি সমর্থকদের একাংশও পরে তাকে প্রতারক বলে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এজেন্ডা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এটা কোনো সতর্কবার্তা নয়, এটা ন্যারেটিভ তৈরি করা:
যখন দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়, তখনই এই ধরনের লোকেরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল দেখিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের রাস্তা প্রশস্ত করা।
স্থানীয় জঙ্গি সমস্যা থাকলেও, তাকে অতিরঞ্জিত করে পুরো দেশকে “হামাসের ঘাঁটি” বানিয়ে ফেলা।
যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন, তাদের উচিত এই ধরনের বিদেশি এজেন্ডার দালালদের চিনে রাখা। একজন ব্যক্তি যিনি বারবার মোসাদ এজেন্টের অভিযোগে অভিযুক্ত, যিনি দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে যান, তার কথা কেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সাথে এত মিলবে — এটা কি সত্যিই কাকতালীয়?
বাংলাদেশ তার নিজস্ব নিরাপত্তা নিজেই দেখবে। বিদেশি এজেন্ডা ও তাদের স্থানীয় মুখপাত্রদের দ্বারা বিভ্রান্ত হবে না, ইনশাআল্লাহ।
সতর্ক থাকুন। দেশের স্বার্থ আগে।
