Home » সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ডিজিএফআই-এর নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুরে ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিযান!

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ডিজিএফআই-এর নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুরে ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিযান!

by indissentnews

দীর্ঘ দুই যুগ ধরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ‘জঙ্গল সলিমপুর’ ছিল দেশের অন্যতম বড় সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের এক অভেদ্য অভয়ারণ্য। ২০১৭ কিংবা ২০২২ সালে প্রশাসন সেখানে অভিযান চালাতে গিয়েও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের পেশিশক্তি ও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন!
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আজ স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে “সন্ত্রাসের প্রতি জিরো টলারেন্স।” কোনো অজুহাত বা আপস নয়, দেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন করতে বর্তমান সরকার যে কতটা বদ্ধপরিকর, তার বাস্তব প্রমাণ আজকের এই সাঁড়াশি অভিযান।

নেপথ্যের কারিগর: ডিজিএফআই-এর অসামান্য গোয়েন্দা সাফল্য
যেকোনো বড় সামরিক বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো ‘নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য’। ৩ হাজার একর পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থাকা রোকন, ইয়াছিন, রিদোয়ানদের মতো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবার গেম-চেঞ্জারের ভূমিকা পালন করেছে আমাদের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)।
মাঠপর্যায়ের নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ, সুকৌশলী পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার— বিশেষ করে ইউএভি (UAV) বা ড্রোনের মাধ্যমে পাওয়া লাইভ ফুটেজ দিয়ে ডিজিএফআই পুরো অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে। তাদের এই প্রত্যক্ষ সহায়তা ও নির্ভুল ডেটার ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ সার্বিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এই বিশাল অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করছে।

এক নজরে এই ঐতিহাসিক অভিযানের ব্যাপ্তি:
অপারেশনটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় জয়েন্ট ফোর্স বা যৌথ অভিযান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশে আজ ফজরের পর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে মাঠে নেমেছে:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫০ জন চৌকস সদস্য (সার্বিক নেতৃত্বে)
১৮০০ পুলিশ ও ৩৩০ জন এপিবিএন সদস্য
৪০০ র‍্যাব ও ১২০ জন বিজিবি সদস্য
১৫টি এপিসি, ৩টি ডগ স্কোয়াড এবং আকাশপথে নজরদারির জন্য ৩টি হেলিকপ্টার!

শহীদ র‍্যাব সদস্যের রক্তের ঋণ ও রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান
গত ১৯ জানুয়ারি এই জঙ্গল সলিমপুরেই সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের একজন র‍্যাব সদস্য শহীদ হন, আহত হন আরও তিন বীর সদস্য। আজকের এই সাড়ে তিন হাজার সদস্যের বিশাল অভিযান সেই শহীদ বীরের রক্তের ঋণ শোধ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের একটি চরম সতর্কবার্তা।
বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী কোনো সিন্ডিকেট বা সন্ত্রাসী গ্রুপ হতে পারে না। যখন রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে এবং ডিজিএফআই-এর মতো একটি পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থার নিখুঁত তথ্য সেনাকমান্ডের হাতে থাকে, তখন কোনো অপরাধী চক্রই আর পার পায় না।
জঙ্গল সলিমপুরের এই অভিযান কেবল একটি অপারেশন নয়, এটি নতুন এক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি— যেখানে অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনী একবিন্দুও আপস করবে না।
স্যালুট বাংলাদেশ সেনাবাহিনী! স্যালুট ডিজিএফআই এবং অভিযানে অংশ নেওয়া সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের!

Related Articles

Leave a Comment