Home » কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনের ‘প্রত্যাহার’ আসলে পুরস্কার, শাস্তি নয়

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনের ‘প্রত্যাহার’ আসলে পুরস্কার, শাস্তি নয়

by indissentnews

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেনের ‘প্রত্যাহার’ আসলে পুরস্কার, শাস্তি নয়

সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীসহ কিছু মানুষের মতো যারা কারা মহাপরিদর্শকের বদলিকে সরকারের ‘শাস্তি’ বা ‘প্রত্যাহার’ হিসেবে চালিয়ে সরকারকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছেন, তারা আসলেই হতভাগা। এ দেশের কলঙ্ক। আজকের তথ্যগুলো দেখার পর তাদের লজ্জায় মুখ ঢাকা উচিত।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট কারা মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব নেন। তখন জুলাই অভ্যুত্থানের পর কারাগারগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা। ৮টি কারাগারে হামলা হয়, প্রায় ২২৪৭ জন বন্দি পালিয়ে যায়। তিনি সেই বিপর্যস্ত কারা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেন। দুই বছর অক্লান্ত পরিশ্রমে কারা অধিদপ্তরকে তিনি যে অবস্থায় এনেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

১৮ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে তিনি যা বলেছেন, তার কোনোটিই গোপন বা নতুন তথ্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থানে পালানো বন্দির সংখ্যা, পুনঃগ্রেপ্তার, এখনো পলাতক (৬৯০ জন, যার মধ্যে ৩ জন জঙ্গি), নরসিংদী কারাগারের ১৬৬ জনের তথ্য হারিয়ে যাওয়া—এসব বিষয় গত দুই বছরে বারবার মিডিয়ায় এসেছে। তিনি শুধু স্বচ্ছভাবে আপডেট দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন:

  • গত এক বছরে ৩০০০-এর বেশি মোবাইল ফোন জব্দ।
  • ১২৭৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (২১ জন বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জন বরখাস্ত, ৩০৩ জন অপসারণ, ৮৭০ জনের বিভাগীয় ব্যবস্থা)।
  • ক্যাশলেস কারাগার (মুন্সিগঞ্জ), এআই সিসিটিভি মনিটরিং, অনলাইন ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট, জ্যামিং সিস্টেম, জিপিএস ট্র্যাকার, বন্দিদের উৎপাদনমুখী কার্যক্রম, ন্যায্য খাবার বিতরণ, মাদক স্পেশাল কারাগারের পরিকল্পনা।
  • কারা ব্যবস্থাকে ‘কাস্টোডিয়াল অ্যান্ড করেকশনাল সার্ভিস বাংলাদেশ’ নামে রূপান্তরের উদ্যোগ।

এগুলো কোনো অতিরিক্ত বাজেট ছাড়াই বাস্তবায়িত হয়েছে। সরকার এসব উন্নয়ন দেখেই তাকে পুরস্কৃত করেছে।

যারা বলছেন সংবাদ সম্মেলনের পর ‘প্রত্যাহার’ হয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলছেন। Daily Star এবং কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিফেন্স উইং-এ ডিফেন্স অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন। এটি সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ। তিনি নিজেই Daily Star-কে বলেছেন, “I was aware of the transfer; hence, I organised the briefing to highlight my activities during my tenure as IG prisons.” অর্থাৎ তিনি আগে থেকেই জানতেন এবং তাই তার কর্মকালের হিসাব দিয়ে গেছেন।

বাসসও বলেছে—এটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সরকার তাকে দেশের বাইরে সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করেছে।

যারা এটাকে ‘প্রত্যাহার’ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন, তারা আসলে সরকারকে ঘায়েল করতে চাইছেন। মাঝখানে পড়েছেন একজন চৌকস কর্মকর্তা, যিনি দুই বছর ধরে কারা ব্যবস্থার ক্ষত সারিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তার বদলির পোস্টের নিচে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মন্তব্য দেখলেই বোঝা যায় তিনি কতটা সম্মানিত ছিলেন।

এটা সত্য—তার বিদায় কারা অধিদপ্তরের জন্য বড় ক্ষতি। কিন্তু সত্য এটাও যে সরকার তাকে শাস্তি দেয়নি, বরং পুরস্কৃত করেছে। যারা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এ নিয়ে হইচই করছেন, তাদের উচিত লজ্জা করা।

Related Articles

Leave a Comment