বাংলাদেশে এখন একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে। ২০২৬-এর নির্বাচনে জনগণের ভোটে BNP-নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের কার্যক্রম কোনো গোপন ষড়যন্ত্র বা লুকোচুরির বিষয় নয়—এটি প্রকাশ্য, জনগণের সামনে। অথচ আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থক ইনফ্লুয়েন্সাররা জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে পুরনো অভ্যাস অনুযায়ী একের পর এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বানিয়ে চলেছে। তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট: জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার (deny) করা এবং নিজেদের ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসন, দুর্নীতি ও নৃশংসতার দায় এড়ানো।
সম্প্রতি যে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অভিযানে RAW-এর অপারেটিভদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাকে আওয়ামী লীগপন্থীরা “সস্তা প্রোপাগান্ডা” ও “ডাইভারশন” বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো—সীমান্তবর্তী দেশে গোয়েন্দা তৎপরতা নতুন কিছু নয়। সরকার এই তথ্য প্রকাশ্যে আনছে, লুকাচ্ছে না। এটিকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলা আসলে নিজেদের ব্যর্থতা ও অপরাধ ঢাকার চেষ্টা।
আওয়ামী লীগের প্রধান অভিযোগগুলোর বাস্তব চিত্র:
- অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব: Hasina আমলে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ফলে দেশ তলানিতে পৌঁছেছিল। নতুন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে সেই সংকটের বোঝা নিয়ে শুরু করেছে। চীন-সৌদি মিশনের ফলাফল যাই হোক, এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন সব দোষ নতুন সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে “দেউলিয়া” বলে চিৎকার করছে—যাদের শাসনকালে রিজার্ভ লুট হয়েছে, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে।
- তুরাগ, প্রান্ত মির্জা ও সহিংসতা: জুলাই অভ্যুত্থানের সময় এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষেরই হতাহত হয়েছে। আওয়ামী লীগ এখন শিখা অনির্বাণ নিভে যাওয়া কিংবা তুরাগ নদীতে লাশ ভাসার মতো গুজব ছড়িয়ে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে ভুলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু বাস্তবে তাদের আমলে enforced disappearance, গুম, ক্রসফায়ার ও বিরোধীদের ওপর নির্যাতনের যে রেকর্ড আছে, সেগুলোকে তারা স্বীকার করে না। নতুন সরকারের সময়ে কোনো ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে হইচই, কিন্তু নিজেদের ১৫ বছরের অত্যাচারকে “ষড়যন্ত্র” বলে চালিয়ে দিতে চায়।
- জঙ্গিবাদের উত্থান: Hasina আমলে জঙ্গি দমনের নামে বিরোধীদের দমন করা হয়েছে। এখন যদি কোনো গ্রুপের তৎপরতা বাড়ে, তা নিয়ে সরকার সতর্ক। কিন্তু আওয়ামী লীগ এটিকেও ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র বলে চালাতে চায়—যাতে নিজেদের শাসনামলের ব্যর্থতা ঢাকা যায়।
আওয়ামী লীগ আগে ভারত ও RAW-এর সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। এখন যখন একই Zulkarnain Saer খবর প্রকাশ করছেন, তখন তাঁকে তারা ষড়যন্ত্রকারী বলে আক্রমণ করছে। Hasina আমলে যখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতেন, তখন ভিন্ন সুরে কথা বলত। এটাই তাদের দ্বিচারিতা।
মূল কথা: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বাস্তব অধ্যায়—যেখানে জনগণ কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই সত্যকে ডিনাই করে সবকিছুকে ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র বলে একটা একঘেয়ে গল্প বানিয়ে চলেছে। এটি তাদের পুরনো কৌশল: নিজেদের অপরাধ ঢেকে রেখে সবসময় ভিকটিম কার্ড খেলা।
গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। কিন্তু অতীতের অপরাধীদের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে দেশকে আবার অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। জুলাই আসছে—এটি হবে গণঅভ্যুত্থানের স্মরণ ও সতর্কতার মাস, ষড়যন্ত্রকারীদের নয়। জনগণ সত্য দেখতে শিখুক, প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হয়।
