ভারতের একটি ঘটনার ভিডিওকে বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার হামলা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সঙ্গে একটি দাবি যুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, মৌলভীবাজারের চাঁদনীঘাট ব্রিজ সংলগ্ন রহমানিয়া পেইন্ট হাউজের মালিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক যুবদল নেতা প্রকাশ্যে তার ওপর হামলা চালান। ভিডিওটি দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাটি বাংলাদেশের বলে দাবি করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওটি আসলে ভারতের একটি ঘটনার। ভারতের রাজস্থানের সিরোহি শহরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আর্থিক বিরোধের জেরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসক এক দোকানদারকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
ভিডিওটি নতুন নয়। গত বছর সেপ্টেম্বরে একই ভিডিও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তখনও এটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ফ্যাক্টচেক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য দেশের ভিডিও বা পুরোনো ঘটনার ফুটেজ ব্যবহার করে বাংলাদেশের ঘটনা বলে প্রচারের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে এমন ভিডিও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও বা তথ্য সত্যতা যাচাই ছাড়া শেয়ার করলে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই এমন ভিডিও বা দাবির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
