Home » ইন্টারনেট রুট নিয়ে গুজব বনাম বাস্তবতা: মোদির সিদ্ধান্তে কি সত্যিই বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বসে গেছে?

ইন্টারনেট রুট নিয়ে গুজব বনাম বাস্তবতা: মোদির সিদ্ধান্তে কি সত্যিই বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বসে গেছে?

by indissentnews

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ইন্টারনেট নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন এবং এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বসে গেছে। কিন্তু তথ্য ও বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দাবি অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর মিল খুবই কম।

প্রথমে বোঝা দরকার, ভারত কেন বাংলাদেশের ইন্টারনেট রুট ব্যবহার করত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে মূল ভারতের সঙ্গে একটি সরু করিডোর—সিলিগুড়ি করিডোর—দিয়ে যুক্ত। এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া ভারতের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল অবতরণ করে, যা বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সেই সংযোগ থেকে পাওয়া ব্যান্ডউইথ স্থল ফাইবারের মাধ্যমে আখাউড়া সীমান্ত হয়ে ভারতের আগরতলা পর্যন্ত দেওয়া হতো। এতে উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুত ও স্থিতিশীল হয় এবং একটি বিকল্প আন্তর্জাতিক রুট তৈরি হয়।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারত নিজস্ব অবকাঠামো উন্নত করতে শুরু করে। নতুন ফাইবার নেটওয়ার্ক, উন্নত রাউটিং ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ ডেটা সংযোগ শক্তিশালী হওয়ায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের মূল নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত করা সম্ভব হয়। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের রাষ্ট্রীয় টেলিকম কোম্পানি বিএসএনএল বাংলাদেশ থেকে নেওয়া প্রায় ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সংযোগ বন্ধ করে দেয়।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সংযোগটি ছিল খুবই সীমিত একটি লিংক। বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা কয়েক টেরাবিট পার সেকেন্ড (Tbps)। ফলে ১০ জিবিপিএসের একটি সংযোগ বন্ধ হওয়া দেশের সামগ্রিক ইন্টারনেট অবকাঠামো বা অর্থনীতিতে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।

আরেকটি বিষয় হলো, বাংলাদেশের অর্থনীতি কখনোই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল ছিল না। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয়, কৃষি উৎপাদন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত। ফলে একটি সীমিত টেলিকম সংযোগ বন্ধ হওয়াকে অর্থনৈতিক ধসের কারণ হিসেবে দেখানো বাস্তবসম্মত নয়।

বাস্তবে যা ঘটেছে তা হলো—ভারত তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইন্টারনেটকে এখন নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালনা করছে। আর বাংলাদেশের দিক থেকেও এই পরিবর্তনের বড় কোনো অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েনি। বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ডিজিটাল অবকাঠামো দ্রুত বদলাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নতুন আঞ্চলিক ডেটা রুট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, “ভারত ইন্টারনেট নেবে না বলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বসে গেছে”—এ ধরনের দাবি তথ্যভিত্তিক নয়, বরং এটি গুজব বা অতিরঞ্জিত প্রচারণার অংশ বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Comment