Home » তারেক রহমানকে নিয়ে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে কারা

তারেক রহমানকে নিয়ে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে কারা

ফেসবুকে সক্রিয় নকল পেজ, অজ্ঞাত অ্যাকাউন্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেটওয়ার্ক

by indissentnews

ফেসবুকে গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে ছড়ানো প্রায় ১৯০টি ভুয়া তথ্যের বড় একটি অংশের লক্ষ্য ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব ভুয়া তথ্যের বেশির ভাগই ছড়ানো হয়েছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ফেসবুক পেজ, নকল অ্যাকাউন্ট এবং সমন্বিতভাবে পরিচালিত কিছু অনলাইন নেটওয়ার্ক থেকে।

কারা ছড়াচ্ছে ভুয়া তথ্য

ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার, ফ্যাক্ট ওয়াচ, ডিসমিসল্যাব, বাংলা ফ্যাক্টদ্য ডিসেন্ট–এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তারেক রহমানকে ঘিরে ছড়ানো অন্তত ২৯টি ভুয়া কনটেন্টের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নাম পাওয়া যায়নি। বরং যে উৎসগুলো বেশি সক্রিয় ছিল, সেগুলো হলো—

  • সদ্য খোলা বা আগে নিষ্ক্রিয় থাকা ফেসবুক পেজ
  • কোনো পরিচয় বা বিশ্বাসযোগ্য ইতিহাস নেই—এমন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট
  • সংবাদমাধ্যমের আদলে তৈরি নকল ফটোকার্ড ব্যবহারকারী পেজ
  • এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রুপ

এসব পেজ ও অ্যাকাউন্টের অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, একই ধরনের ভুয়া তথ্য একাধিক জায়গা থেকে একসঙ্গে ছড়ানো হচ্ছে, যা সমন্বিত প্রচারণার ইঙ্গিত দেয়।

কী ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে

তারেক রহমানকে নিয়ে ছড়ানো ভুয়া খবরগুলোর ধরন ছিল মূলত চার রকমের—

  1. ভুয়া উদ্ধৃতি ও বক্তব্য বিকৃতি
    তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে বা সম্পূর্ণ বানানো উদ্ধৃতি দিয়ে ফটোকার্ড ছড়ানো হয়েছে, যা দেখতে মূলধারার গণমাধ্যমের প্রকাশনার মতো।
  2. ভুয়া ও সম্পাদিত ছবি–ভিডিও
    পুরোনো ভিডিও নতুন দাবিতে প্রচার, কিংবা ছবি ও ভিডিওতে ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বার্তা যোগ করা হয়েছে।
  3. এআই ও ডিপফেক কনটেন্ট
    নতুন ফেসবুক পেজ খোলার আহ্বান জানাচ্ছেন—এমন একটি ডিপফেক ভিডিও ছড়ানো হয়, যা আসলে তাঁর পুরোনো ভিডিওর ভিন্ন দৃশ্য ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি।
  4. সম্পূর্ণ কল্পিত দাবি
    নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তি ও বিএনপিতে যোগদান নিয়ে যে ছবি ছড়ানো হয়, সেটিও এআই দিয়ে তৈরি বলে যাচাইয়ে উঠে আসে।

নির্বাচন সামনে রেখে উদ্দেশ্য

ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই ভুয়া তথ্য প্রচারণা তীব্র হয়েছে। তারেক রহমান ছাড়াও শেখ হাসিনা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, শফিকুর রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা একই ধরনের ভুয়া তথ্যের শিকার হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বদলে অজ্ঞাত ও নকল অনলাইন সত্তার মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো দায় এড়ানো এবং দ্রুত বেশি মানুষের কাছে বিভ্রান্তি পৌঁছে দেওয়া।

সতর্ক থাকার আহ্বান

ফ্যাক্ট চেকাররা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে উৎস যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের লোগোযুক্ত ফটোকার্ড বা ভিডিও দেখলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

Related Articles

Leave a Comment