25
বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতি এখন আর শুধু মাইক, পোস্টার আর মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বড় একটি অংশ সরে গেছে মোবাইল স্ক্রিনে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা রাজনীতিকে দেখছে রিলস, মিম আর ইনফ্লুয়েন্সার ভিডিওর ভেতর দিয়ে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করলে আজ আর কোনো রাজনৈতিক শক্তির টিকে থাকা সহজ নয়।
বাংলাদেশ–এর সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে, তরুণরা এখন রাজনীতির “দর্শক” নয়। তারা কনটেন্ট তৈরি করছে, ন্যারেটিভ বানাচ্ছে, আবার সেটাকেই ভোটের সিদ্ধান্তে রূপ দিচ্ছে।
রাজনীতির ভাষা বদলে গেছে
আগে রাজনীতির ভাষা ছিল বক্তৃতা আর ইশতেহার। এখন সেই ভাষা ছোট, তীক্ষ্ণ এবং অনেক সময় ব্যঙ্গাত্মক। মিম, শর্ট ভিডিও বা এক মিনিটের রিলসের মধ্যেই ঢুকে যাচ্ছে রাজনৈতিক বার্তা।
গবেষণাগুলো বলছে, তরুণরা সরাসরি দলীয় ভাষণের চেয়ে গল্প, রসিকতা আর ভিজ্যুয়াল সিম্বলের মাধ্যমে রাজনীতি বুঝতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। মিম এখানে শুধু হাসির বিষয় নয়। এটি হয়ে উঠেছে মত প্রকাশের অস্ত্র। একটি ভাইরাল মিম অনেক সময় দশটা সভার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে।
ইনফ্লুয়েন্সার কেন গুরুত্বপূর্ণ
তরুণরা প্রথাগত রাজনীতিবিদদের খুব একটা বিশ্বাস করে না। বরং তারা বিশ্বাস করে যাদের তারা নিয়মিত দেখে, শোনে এবং যাদের জীবনধারা তাদের নিজের মতো মনে হয়। এখানেই ইনফ্লুয়েন্সারদের ভূমিকা।
ইউটিউবার, ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা টিকটকাররা যখন কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলেন, তরুণদের কাছে সেটি “দলীয় প্রচার” মনে হয় না। মনে হয় ব্যক্তিগত মতামত। এই বিশ্বাসযোগ্যতাই ইনফ্লুয়েন্সার কনটেন্টকে শক্তিশালী করে তোলে।
মিম কালচার ও ন্যারেটিভ যুদ্ধ
নির্বাচন এখন ন্যারেটিভের যুদ্ধ। কে দেশটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করতে পারছে, সেটাই মুখ্য। মিম পেজগুলো এই ন্যারেটিভ যুদ্ধের অগ্রভাগে আছে।
একটি ভালো মিম জটিল রাজনৈতিক বক্তব্যকে সহজ করে তোলে। আবার কখনো কখনো ক্ষমতার সমালোচনাকে নিরাপদ ও জনপ্রিয় করে তোলে। তরুণরা এতে নিজেদের ভাষা খুঁজে পায়। তারা শেয়ার করে, কমেন্ট করে, আলোচনা চালায়। এভাবেই ডিজিটাল স্পেসে একটি সমান্তরাল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
মাঠের রাজনীতি থেকে স্ক্রিনের রাজনীতি
এর মানে এই নয় যে মাঠের রাজনীতি শেষ। কিন্তু তরুণদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল রাজনীতি অনেক বেশি কার্যকর। তারা লাইভ স্ট্রিম দেখে, শর্ট ক্লিপে বক্তব্য শোনে, মন্তব্যে তর্কে জড়ায়। রাজনীতির অংশগ্রহণ এখন আর ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিদিনই সেটা ঘটছে অনলাইনে।
এই পরিবর্তন যারা বুঝতে পারছে না, তারা তরুণ ভোটারদের হাতছাড়া করছে। আর যারা বুঝছে, তারা কনটেন্ট, ক্রিয়েটর আর ডিজিটাল কমিউনিটির দিকে ঝুঁকছে।
সামনে কী
তরুণ ভোটারদের ধরতে চাইলে শুধু ফেসবুক পেজ খুললেই হবে না। দরকার তাদের ভাষা বোঝা, তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করা। মিম, ইনফ্লুয়েন্সার আর শর্ট কনটেন্টকে হালকা বিনোদন ভাবলে ভুল হবে। এগুলো এখন রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ।
নির্বাচনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে এই প্রশ্নের ওপর—কে তরুণদের সঙ্গে কথা বলতে পারছে তাদের নিজের ভাষায়। স্ক্রিনের ভেতর যে রাজনীতি চলছে, সেটাই এখন ভোটের আগে সবচেয়ে বড় ময়দান।

1 comment
Hi, this is a comment.
To get started with moderating, editing, and deleting comments, please visit the Comments screen in the dashboard.
Commenter avatars come from Gravatar.