আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একাধিক ফটোকার্ডে দাবি করা হচ্ছে, ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সেনাবাহিনীকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তবে যাচাই করে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। মূলত একটি স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক পেজের পোস্টকে কেন্দ্র করে এই গুজবের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে সরকার এবং সেনাবাহিনীকে গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নজরে আসার পর ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার এ নিয়ে অনুসন্ধান চালায়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধান উপদেষ্টা বা তার কার্যালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে এমন গুরুতর আদেশ দেওয়া হলে তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হতো।
গুজবটির উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, ‘Janina Tv’ (জানিনা টিভি) নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি এই ফটোকার্ডটি প্রথম পোস্ট করা হয়। পেজটি তাদের বায়োতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে যে, এটি একটি ‘বিনোদনমূলক প্ল্যাটফর্ম’ এবং তাদের পোস্টগুলো ‘শুধুমাত্র বিনোদনের অংশ’। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টটিকে বাস্তব মনে করে শেয়ার করতে থাকেন, যার ফলে জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে স্যাটায়ার বা কৌতুকপূর্ণ পোস্টকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘আসল সংবাদ’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তাই ইন্টারনেটে পাওয়া যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
